• Sunrise At: 5:50 AM
  • Sunset At: 5:46 PM
[email protected] +88 01975539999

নামায আদায়ের বিস্তারিত নিয়ম

তাহিয়্যাতুল অযূ নামায

অযূ করার পরের দুই রাক’আত নফল নামাযকে তাহিয়্যাতুল অযূ নামায বলে ।

হযরত উকবা ইব্‌ন আমির (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে উত্তমরূপে অযূ

করে তারপর পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে দুই রাক’আত নামায আদায় করে তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যাবে।’ (সহীহ মুসলিম: ১/১২২)

নিম্নে নামায আদায়ের নিয়মগুলো ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা করা হলো:

১. নামাযের জন্য জায়নামাযে দাঁড়িয়ে নিম্নের দু’আ পড়তে হয়।

اِنِّىْ وَجَّهْتُ وَجْهِىَ لِلَّذِىْ فَطَرَالسَّمَوَتِ وَاْلاَرْضَ حَنِيْفَاوَّمَااَنَا مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ

উচ্চারণ: ইন্নী ওয়াজ্জাহ্তু ওয়াজ্‌হীয়া লিল্লাযী ফাত্বারাস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বা হানীফাঁও ওমা আনা মিনাল মুশরিকীন।

অর্থ: নিশ্চয়ই আমি তাঁর দিকে চেহারা ফিরালাম, যিনি মহাকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। আমি কখনও মুশরিকদের (বহু খোদা বিশ্বাসী) অর্ন্তৰ্ভূক্ত নই ।

২. নিয়ত করা : ফরয, সুন্নাত, ওয়াজিব, নফল ইত্যাদি সকল নামাযের নিয়ত গুলো নির্দিষ্ট নামাযের বর্ণনায় আলোচনা করা হবে।

৩. তাকবীর দেয়া: নিয়াত করার পর তাকবীর দিয়ে নামায শুরু করতে হয়।

الله اكبر

উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার। অর্থ: আল্লাহ মহান।

৪. ছানা: তাকবীরের পর নিম্নের ছানা পড়বে।

উচ্চারণ: সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়াবিহাম্‌দিকা ওয়াতাবা রাকাসমুকা ওয়াতা ‘আলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।

অর্থ: হে আল্লাহ আপনি পবিত্রময় এবং প্রশংসাময়, আপনার নাম অতি বরকতময়। আপনি সমুচ্চ মর্যাদার অধিকারী এবং আপনি বাদে কেহ মা’বূদ নাই ।

৫. তা‘আউয্: ছানা পড়ার পর নিম্নের তা‘আউয পড়বে।

উচ্চারণ: ‘আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাজীম। 

অর্থ: আমি অভিশপ্ত শয়তানের চক্রান্ত থেকে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহন করছি।

৬. তাসমিয়া: তারপর নিম্নের তাসমিয়া পড়বে।

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

অর্থ: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি ।

৭. সূরা আল ফাতিহা: তাসমিয়া পড়ার পর সকল রাক’আতে সূরা আল ফাতিহা পড়বে, জামা’আতে নামাযের সময় ইমাম ছাহিব পড়বে এবং মুকতাদীরা মনোযোগ দিয়ে শুনবে। বাংলায় আরবী উচ্চারণ লিখা প্রায় অসম্ভব, কিন্তু পাঠকদের মুখস্থ করার সুবিদার্থে এখানে অতি সতর্কতার সাথে সূরা আল ফাতিহার বাংলা উচ্চরণ দেয়া হয়েছে, যেখানে (II) হলে এক আলিফ টেনে পড়তে হবে এবং (Mift) হলে চার আলিফ টেনে পড়তে হবে। (‘) এ চিহ্ন দিয়ে ‘আইন বুঝানো হয়েছে এবং (ক্ব) এ চিহ্ন দিয়ে ক্বাফ বুঝানো হয়েছে। তবে সবচেয়ে উত্তম হবে আরবী উচ্চারণ অভিজ্ঞ কোন ব্যক্তি থেকে নিজ কানে শুনে মুখস্থ করে নেয়া এবং শিশুদেরকে শিশুকালেই মুখস্থ করিয়ে দেয়া।

উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল ‘আলামীন- আরাহমাাানির রাহীম- মাাালিকি ইয়াওমিদ্ দীন – ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাাাকা নাসতা‘ঈন – ইহদিনাছ্ ছিরাাাত্বাল মুসতাক্বীম – ছিরাাাত্বাল্লাযীনা আন’আমতা ‘আলাইহিম – গাইরিল মাগ্বদৄবি ‘আলাইহিম্ ওয়ালাদ্ দ্বাাাাাাাাল্লীন। আমীন।

অর্থ: (১) সমস্ত প্রশংসাই আল্লাহ্ তা’আলার – যিনি মহাবিশ্বের প্রতিপালক  (২) যিনি পরম দয়ালু, পরম করুণাময়। (৩) যিনি প্রতিফল-দিবসের (অর্থ: ক্বিয়ামাত দিবসের) মালিক। (৪) আমরা আপনারই ‘ইবাদত করছি এবং আপনারই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি। (৫) আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন। (৬) ঐ লোকেদের পথ-যাদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন। (৭) তাদের পথ নহে-যাদের প্রতি আপনার গযব বর্ষিত হয়েছে,আর না তাদের পথ-যারা পথভ্রষ্ট হয়ে গিয়েছে। – আমীন।

৮. মিলিয়ে অন্য যেকোন সূরা পড়া: সূরা আল ফাতিহা পড়ার পর আল কুরআনুল কারীমের যে কোন সূরার বড় আয়াত কমপক্ষে এক আয়াত অথবা ছোট আয়াত কমপক্ষে তিন আয়াত পড়বে। দ্বিতীয় রাক’আতে প্রথম রাকা‘আতের আয়াত বা সূরা ব্যতীত অন্য যেকোন আয়াত বা সূরা পড়বে।

নিম্নে সূরা ইখলাছের ছোট তিন আয়াত দেয়া হলো।

উচ্চারণ: কুলহু ওয়াল্লাহু আহাদ – আল্লাহুছছামাদ – লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ – ওয়ালাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ ।

অর্থ: (১) (হে মুহাম্মাদ সা.) আপনি (তাদেরকে) বলে দিন যে, তিনি অর্থৎ আল্লাহ্ এক। (২) আল্লাহ্ অমুখাপেক্ষী।(৩) তাঁর কোন সন্তান-সন্তুতি নাই, আর তিনি কারও সন্তান নন। (৪) আর তাঁর সমতুল্যও কেহই নেই ।

৯. রুকুর তাসবীহ: তারপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে রুকুতে যাবে। রুকুতে যাওয়ার সময় হাত হাটুতে আলতো করে রাখবে, হাতের আঙ্গুল ফাকা করে। রাখবে। শরীরের ওজন পিঠের উপর দিবে। মাথা, পিঠ ও কোমর একই সরল রেখায় রাখবে। এমন সরল হবে যেন পিঠে মগভর্তি পানি রাখলে পানি না পরে, যাদের দেহ কিছুটা প্রশ্বস্থ তারা পিঠ সোজা করার জন্য হাটু সামান্য ভাঙ্গতে পারে। স্বাভাবিক ভাবে হাটু সোজা রাখাই উত্তম, এতে পিঠে ব্যাথা জাতিয় সমস্যা দূর হয় এবং শরীরের মেরুদন্ড দৃঢ় হওয়া ছাড়াও বহু উপকার রয়েছে।

রুকুতে যেয়ে নিম্নের রুকুর তাসবীহ বিজোড় সংখ্যায় ৩/৫/৭/৯ বার পড়বে।

উচ্চারণ: সুবহানা রাব্বীয়াল ‘আজীম ।

অর্থ: আমার মহান পালনকর্তা (আল্লাহ) পবিত্র।

১০. তাসমি’: রুকুর তাসবীহ শেষ করে নিম্নের তাসমী— বলে উঠে দাঁড়াবে।

উচ্চারণ: সামি‘ আল্লাহু লিমান হামিদাহ্ ।

অর্থ: আল্লাহর প্রশংসা করলে তিনি তা শুনতে পান।

১১. তাহমীদ: তাসমি’ বলা শেষ হলে, নিম্নের তাহমীদ বলবে ।

উচ্চারণ: রাব্বানা লাকাল হাম্দ

অর্থ: হে আমার পালনকর্তা (আল্লাহ)! সকল প্রশংসা আপনার ।

১২. সিজদাহ্’র তাসবীহ্: তাহমীদ বলা শেষ হলে আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যাবে। সিজদায় যেতে প্রথমে দুই হাটু, তারপর দুই হাত, তারপর নাক, তারপর কপাল জায়নামাযে বা মসজিদের মাটিতে ঠেকাবে। মনে মনে ভাববে আল্লাহ কুদরতী চরণে আমার ললাট ঠেকিয়ে সিজদা করছি। সিজদার সময় শরীরের ওজন কপালে দিয়ে চেপে ধরবে না, দু হাতের বাহুতে ভর দিয়ে কপাল আলতো ভাবে জমিনে লাগাবে, হাতের আঙ্গুল মিলিয়ে কিবলামূখী রাখবে। শ্বাস প্রশ্বাস থাকবে স্বাভাবিক। এ সময় নিম্নের সিজদার তাসবীহ বিজোড় সংখ্যায় ৩/৫/৭/৯ বার পড়বে, এ সময় ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি স্থির রাখবে এক খুটি বলা হয়, আর বাম পা কিছুটা টেনে এনে আদবের সাথে ডানপায়ের সাথে লাগিয়ে রাখবে, দুই পা খুব বেশী করে দু দিকে এমনভাবে ছড়িয়ে রাখবে না যেন লুঙ্গি পড়ার ফলে পিছনের কাতারের কারো নজর নিজ লুঙ্গির ভিতরে নিজ হাটু পর্যন্ত এসে যায়। তারপর প্রথমে কপাল, তারপর নাক, তারপর হাত উঠিয়ে এক তাসবীহ পড়া যায় এ পরিমান সময় বসবে, বসার ক্ষেত্রে ডান পায়ের আঙ্গুলগুলো যথা সম্ভব কিবলামুখী করে জমিনে চেপে রাখবে, কারো পায়ের আঙ্গুল শক্ত থাকলে বা ব্যাথা থাকলে স্বাভাবিক ভাবে বসবে, এ বসা নিয়ে আঙ্গুল বেশী জোর করে চেপে ধরে ব্যাথা সৃষ্টি করে খুব অস্থির হওয়ার প্রয়োজন নেই, রিলাক্স থাকবে। তারপর আবার দ্বিতীয় সিজদাহ দিবে। তারপর আবার প্রথমে কপাল, তারপর নাক, তারপর হাত, তারপর হাটু

এভাবে উঠে দাড়াবে। প্রয়োজন না হলে উঠার সময় হাতে মাটিতে ভর দিয়ে উঠবে না। সিজদাহ থেকে উঠে দাড়ানো হলে নামাযের এক রাক’আত আদায় হয়ে গেল। এভাবে যে ওয়াক্তের যে কয় রাক’আত নামায থাকবে সে

কয় রাক’আত একই নিয়মে আদায় করবে।

উচ্চারণ: সুবহানা রাব্বী আল ‘আলা।

অর্থ: আমার মহান পালনকর্তা (আল্লাহ) পবিত্র।

১৩. তাশাহুদ (আত্তাহিয়্যাতু) দ্বিতীয় রাক’আতের দ্বিতীয় সিজদাহ শেষ হলে, প্রথম বৈঠকে বসতে হবে। বসার ক্ষেত্রে পূর্বের মতই ডান পায়ের আঙ্গুলগুলো যথা সম্ভব কিবলামুখী করে জমিনে চেপে রাখবে, কারো পায়ের আঙ্গুল শক্ত থাকলে বা ব্যাথা থাকলে স্বাভাবিক ভাবে বসবে, এ বসা নিয়ে আঙ্গুল বেশী জোর করে চেপে ধরে ব্যাথা সৃষ্টি করে খুব অস্থির হওয়ার প্রয়োজন নেই, রিলাক্স থাকবে, শিশুদেরকে শিশুকাল থেকেই এ বসা অভ্যাস করাতে হবে।

তারপর নিম্নের তাশাহুদ পরবে।

উচ্চারণ: আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াছ্ছালাওয়াাাতু ওয়াত্বায়্যিবাাাতু আস্সালামু

‘আলাইকা আইয়্যুহান নাবীয়্যু ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু – আস্সালামু.‘আলাইনাাা ওয়া’আলা ‘ইব্যাদিল্লাহিহ্ ছাালিহীন – আশহাদু আল্ ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।

অর্থ: সকল অভিবাদন (মৌখিক, দৈহিক এবং আর্থিক ‘ইবাদত), নামায ও পবিত্রতা একমাত্র আল্লাহ পাকের জন্য। হে নবী! আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক এবং রাহমাত ও বারাকাত হোক। আমাদের ও আল্লাহর সকল নেক বান্দার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ বাদে কেহ মা’বূদ (ইলাহ) নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হযরত মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।

১৪. দরূদ শরীফ: নামায যদি দুই রাকাআতের হয় তাহলে তাশাহুদ বা আত্তাহিয়্যাতু পড়ার পর নিম্নের দরূদ শরীফ পড়ে সালাম ফিরাতে হবে। আর নামায যদি তিন বা চার রাক’আত হয় তাহলে দুই রাক’আত শেষে প্রথম বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পড়ে আল্লাহু আকবার বলে দাড়িয়ে যাবে। তিন রাক’আত হলে তৃতীয় রাক’আতের দ্বিতীয় সিজদাহ শেষে নামাযের দ্বিতীয় বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পড়ার পর নিম্নের দরূদ শরীফ পড়বে অথবা চার রাক’আত হলে চতুর্থ রাক’আতের দ্বিতীয় সিজদার পর নামাযের দ্বিতীয় বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু

পড়ার পর নিম্নের দরূদ শরীফ পড়বে।

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ছাল্লি ‘আলাাা মুহাম্মাদিও ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদিন কামাাা ছাল্লাইতা ‘আলাাা ইবরাহীম ওয়া ‘আলা আলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ আল্লাহুম্মা বারিক ‘আলাাা মুহাম্মাদিও ওয়া ‘আলাাা আলি মুহাম্মাদিন কামাাা বাাারাকতা ‘আলা ইবরাাহীমা ওয়া ‘আলা আলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ।

অর্থ: হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (সা.) এর উপর এবং তাঁর বংশধরগণের উপর অনুগ্রহ বর্ষণ করুন। যেমনটি হযরত ইব্রাহীম (আ.) এবং তার বংশধরগণের উপর করেছিলেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও সম্মানিত। হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর বংশধরগণের উপর বরকত দান করুন, যেরূপ ইব্রাহীম(আ.) ও তাঁর বংশধরদের উপর করেছিলেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও সম্মানিত।

১৫. দু’আ মাছুরা: সকল নামাযের দ্বিতীয় বা শেষ বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু ও দরূদ শরীফ পড়ার পর নিম্নের দু’আ পড়বে। একে দু‘আ মাছুরা বলে ।

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী জালামতু নাফসী জুল্‌মাঁন কাছীরাঁও ওয়ালা ইয়গফিরুষ যুনুবা ইল্লা আনতা ফাগফিরলী মাগফিরাতাম্ মিন ‘ইন্দিকা ওয়ার্হামনী ইন্নাকা আন্তাল গাফূরুর্ রাহীম।

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আমার নিজের উপর অত্যন্ত জুলুম করেছি। আপনি ছাড়া পাপ মোচনকারী কেউই নেই। অতএব হে আল্লাহ! অনুগ্রহ করে আমার পাপ মোচন করুন এবং আমার প্রতি দয়া করুন। নিশ্চয়ই আপনি দয়ালু ও পাপ মোচনকারী।

১৬. সালাম: তারপর প্রথমে ডান কাঁধে সালাম ফিরাতে হবে, তারপর বাম কাঁধে সালাম ফিরাতে হবে। দুই কাঁধে কিরামিন কাতিবীন ফিরিশতা থাকেন।

নামাযের এ সালাম মূলত তাঁদের উদ্দেশ্যে।

উচ্চারণ: আস্সালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ

অর্থ: তোমাদের উপর আল্লাহ তা’আলার শান্তি ও কৃপা বর্ষিত হোক।

১৭. মুনাজাত: ফরয নামায শেষে সালাম ফিরানোর পর নিম্নের অথবা যেকোন মুনাজাত দিবে। বাকী সুন্নাত নফল নামায় শেষ করে শেষে আবার মুনাজাত দিবে। শিশু যেমন মাকে মা, মা, মাগো বা আম্মা, আম্মা আম্মাগো বলে ভালবাসা নিয়ে একটু আদর পাওয়ার আশায় ডাকে, এরচেয়েও কোটিগুন বেশী ভালবাসা নিয়ে আর্জি করে চোখের পানি বের করে আল্লাহর কাছে মুনাজাত করবে, কান্না না আসলে কান্নার চেষ্টা করবে এটিই আল্লাহর কাছে পছেন্দর, মুনাজাতে হুব্বে রাসূলের নিদর্শন স্বরূপ দরূদ শরীফ পড়বে, তারপর নিজ মুর্শিদ, উস্তায ও পিতামাতার জন্য দু’আ করবে, সবশেষে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী মহাবিশ্বের মহাস্রষ্টা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট দু’আ করবে, ইনশাআল্লাহ আল্লাহ এ দু’আ কবুল করবেন।

উচ্চারণ: রাব্বানাাা আতিনাাা ফীদ্দুনইয়াাা হাসানাতাঁও ওয়াফীল আখিরাতি হাসানাতাঁও ওয়াক্বিনাাা ‘আযাবান্নাাার আল্লাহুম্মাহগফির্লী ওয়ালি ওয়ালিদাইয়্যা ওয়ালিজামী—য়িল মু’মিনীনা ওয়াল মু’মিনাতি ওয়াল মুসলিমীনা ওয়াল মুছলিমাতি, বিরাহমাতিকা ইয়াাা আরহামার্ রাহিমীন।

অর্থ: হে আমাদের প্রভু! আমাদের ইহ-পরকালের মঙ্গল দান কর এবং আমাদেরকে দোযখের আগুন হতে নাজাত দান কর। সৃষ্টি সেরা মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর সন্তান-সন্ততি এবং সহচরগণ সমস্তের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক । আপনার দয়া বিতরণ করুন, হে শ্রেষ্ঠ দয়াময়।

সংগ্রহঃ নামায শিক্ষা কিতাব থেকে। লেখকঃ হযরত মাওলানা মুফতি আল্লামা ডক্টর মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম সিদ্দিকী  দাঃবা, পীর সাহেব, তালিমে ইসলাম, মানিকগঞ্জ, বাংলাদেশ। মূল কিতাবটি পড়ার অনুরোধ রইলো।

 

Lorem Ipsum

Designed by Mohd Nassir Uddin