• Sunrise At: 5:50 AM
  • Sunset At: 5:46 PM
[email protected] +88 01975539999

হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম সিদ্দিকী (রহ.) কর্তৃক লিখিত

গ্রন্থসমূহের পরিচিতি ও পর্যালোচনাঃ

যুগে যুগে যুগশ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক দিকপালগণ তাদের ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে যুগ থেকে কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও ধর্মীয় গাড়োমী বিদুরিত করেছেন। তার ব্যতিক্রম ঘটেনি অধ্যাপক হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম সিদ্দিকী সাহেবের আল কুরআনুল কারীম ও সুন্নাহর আলোকে গবেষণামূলক, আধ্যাত্মিক ও বিজ্ঞান ভিত্তিক লেখনীর ক্ষেত্রেও। মাওলানা সাহেবের লেখনীর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তিনি আল-কুরআনুল কারীম ও সুন্নাহর বিধানকে বিজ্ঞানের উৎকর্ষের এ যুগে বিজ্ঞানের নির্যাস দিয়ে সুরভী ছড়িয়েছেন। যা সকল ধর্মের মানুষের নিকট সাদরে গৃহীত হয়েছে। আমরা এ অধ্যায়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।

মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম সিদ্দিকী রহ. সাহেব তাঁর জীবদ্দশায় নিম্নলিখিত আটখানা কিতাব রচনা করেন; যা তাঁর সুযোগ্য সাহেবজাদা ও প্রধান খলিফা হযরত মাওলানা মুফতি ড. মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম সিদ্দিকী সাহেব কর্তৃক প্রকাশিত হয়।

১. বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে পর্দা

২. তারানায়ে জান্নাত

৩. মহাস্বপ্ন।

৪. জীবন রহস্য ও দেহতত্ত্ব।

৫. মা’রেফতের ভেদতত্ত্ব

৬. ধূম পিপাসা সর্বনাশা

৭. মহা ভাবনা

৮. পীর ধরার অকাট্য দলিল

 

 নিম্নে গ্রন্থ সমূহের বিস্তারিত পরিচিতি ও পর্যালোচনা উপস্থাপন করা হলে

৩. মহাস্বপ্ন  সংক্ষিপ্ত আলোচনা

১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে অধ্যাপক সিদ্দিকী সাহেব (রহ.) মহাস্বপ্ন’ নামক গ্রন্থটির মাধ্যমে এক অনন্য মুসলিম বিজ্ঞানীর পরিচয় দিয়েছেন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর ইতিকালের প্রায় ১৫শত বছর পর এ নামক কিতাবে একটি হাদিস শরীফের, “কবরে কৃপণ ব্যক্তির বুকে সাপে কামড়াবে” বৈজ্ঞানিক প্রমাণ করেছেন, যা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। সুদীর্ঘ দশ বছর নিরলস গবেষণা ও পরিশ্রমের ফলে অধ্যাপক হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম সিদ্দিকী (রহ.) সাহেব বিজ্ঞানকে উপহার। দিয়েছেন বিজ্ঞান ভিত্তিক এ মহাকিতাবটি। যা ইতিহাসে ইসলামের নাম উজ্জ্বল

করে রাখবে। এই কিতাবে তিনি বিজ্ঞানের এই উৎকর্ষের যুগে সম্পূর্ণ নতুন একটি থিওরি  (Man will have never been vanishing, and one man divided into crore of crores atom men after death and they can listen and watch with live feelings)  আবিষ্কার করে প্রমাণ করে দিয়েছেন ইসলামের মহা মনীষীদের মাধ্যমেই বিজ্ঞানের সূত্রপাত এবং মনে করিয়ে দিয়েছেন ৭৬৮ খ্রিস্টাব্দের রসায়নের জনক জাবির ইবনে হাইয়ান। উল্লেখ্য, তার লিখিত ‘আল-কিমিয়া’ নামক কিতাব থেকে পরবর্তীতে রসায়নের (Chemistry) জন্ম, তিনিই প্রথম সালফিউরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড ইত্যাদি আবিস্কার করেছিলেন। আল-বাত্তানী সেই ৮৯০ খ্রিস্টাব্দেই ত্রিকোণমিতির সাইন (sin), কোসাইনের (cos) সাথে ট্যানজেন্টের (tan)

সম্পর্ক তিনিই প্রথম আবিস্কার করেছিলেন এবং সর্বপ্রথম ৩৬৫ দিন, ৫ ঘন্টা, ৪৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ড = এক সৌর বছর প্রমাণ করে দিয়েছিলেন, এবং টলেমীর বহু থিওরি সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করে দিয়েছিলেন।213 ‘আল কানুন ফি আল তিব্ব’, যা ছিল ১৭৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিশ্বের সমস্ত দেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের একমাত্র পাঠ্য বই এর লেখক চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক আবু আলী ইবনে সিনার (৩৭০-৪২৮হি./৯৮০-১০৩৭ খ্রি.), মূসা আল খাওয়ারিযমী (১৬৪-২৩৬ হি./৭৮০-৮৫০খ্রি.), আল কিন্দী (১৮৫-২৫৯হি./৮০১-৮৭৩ খ্রি.),

আল ফারাবীর (২৫৮-৩৪৯হি./৮৭২-৯৫০ খ্রি.) মর্যাদাপূর্ণ বিজয়ের কথা। উল্লেখ্য, ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে মাওলানা সাহেব বলেছিলেন “মানুষের আঙ্গুলের একটু অংশ কেটে ফেললে ঐ কাটা অংশ থেকে অসংখ্য মানুষ তৈরি করা সম্ভব, যা ১০ বছর পর ক্লোন থিওরির রূপ নিল এবং ভেড়া (ডলি) সৃষ্টি করা হল, মানুষ সৃষ্টির গবেষণা চলছে’’।

কিতাবটির শুরুতে মাওলানা সাহেব বলেন, “মানুষ আর পশু একই প্রাণী, তফাত হচ্ছে বিবেকে। তাই বলা হয়, Man is a rational animal। পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট একজন মানুষকে যদি পশু বলা যায় সে ক্ষেপে ওঠে। কিন্তু একটা পশুকে যদি মানুষ বলা যায় সে খুশী হয় না। কারণ সে জানে যে সে পশু। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই জানেনা যে সে মানুষ নয়। তাই সে যা নয় তা তাকে বললে সে ক্ষেপে যায়”।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা যা জানি তা মোটেই প্রকাশ করিনা এবং যা জানিনা তা প্রকাশের জন্য খুবই তোলপাড় করি। অন্ধ ঔৎসুক্য এমনই মারাত্মক নেশা যা মানুষকে চরম অধপতনে নিয়ে যেতে পারে তার জ্ঞানের অলক্ষ্যে। সুতরাং, সব ক্ষেত্রে প্রশ্ন করা ভাল নয়। যুক্তির স্তিমিত অবস্থায়ই বিশ্বাসের মৌলিক কারণের উৎস। আব্রাহাম লিংকন বলেছেন, Reason more where reason is possible but don’t urgue at all where reason is not possible (যেখানে যুক্তি খাটে, বেশি করে যুক্তি করবে কিন্তু যেখানে যুক্তি খাটেনা সেখানে মোটেই যুক্তি করো না)। যে লোক বলে, যতই সে জ্ঞানী হোক, আমি যা বললাম। এ ছাড়া আর জ্ঞান নেই- সে মূখ । যে বলে আমি জানিনা সে অনেক জেনেছে।”

দার্শনিক মাওলানা সাহেব শুরুতেই মানুষকে তার নিজের পরিচয় সম্পর্কে অবহিত করে মহান আল্লাহপাকের দেয়া উপহার ‘বিবেক সম্পর্কে আমাদের বিবেকের বিবেকচক্ষু খুলে দিয়েছেন।

মানুষের মৃত্যু সম্পর্কে মাওলানা সাহেব বলেন-

মরণ একটা দারুণ রহস্যপূর্ণ ব্যাপার। মানুষ মরে যায় কোথায়? আসলে কি মানুষ সত্যিই মরে? নাকি আমাদের ধারণাটা যাকে আমরা মৃত ব্যক্তি বলি তার সম্বন্ধে পাল্টে যায়। আমরা ভাবি সে মরেছে। আসলে সে মরেনি। সে এখন একটা নিরব জীবনে আছে এটা অত্যন্ত বাস্তব জীবন, সে জীবন সুপ্ত জাগ্রত ।

আসলে আমরা মরে আছি। ওই এখন এইমাত্র জন্মগ্রহণ করল। চিরদিন আমরা শুনে আসছি, বলে আসছি অমুকে মরে গেল। এসো অমুকের মৃত্যুতে আমরা বাংলা, ভারত, রাশিয়া, এশিয়া, আমেরিকা ইত্যাদি দেশের সভ্য মানুষেরা ৫ মিনিট নিরবতা অবলম্বন করে শ্রদ্ধা জানাই। অর্থাৎ জীবনে অন্তত পাঁচটা মিনিটের জন্যও মরণ বলে একটা মিথ্যা কথা স্বীকার করি । মরণকে মিথ্যা কথা বলছি শুনে

অনেকে অন্য রকম ভাবতে পারে। আসলে মরণ বিশ্বাস করে কয়জন ? মরণের কথা মনে হলে মনের কোণে যেন মনে হয় আমি মরব না কোনদিন। অমুক নারী বা পুরুষ মরবে আমি মরব না। এই যে অনবরত মরণ সম্বন্ধে একটা প্রচ্ছন্ন। অবিশ্বাস এটাই বহু প্রতিভাবান মানুষের জীবনে অপমৃত্যুর কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। আপনি বলবেন, মরণ সম্বন্ধে এত চিন্তা করে লাভ কি? তাইতাে বলছিলাম, কয়টা মানুষকে ভাবনা প্রবণ মানুষ মনে করা যায়।

কারণ, মরণ এমন জিনিস যা শুধু জীবনেই ঘটবে। মরণে ঘটবে না। একবার ঘটলে দু’বার ঘটবে না এবং যদি একবার মরণ হয়, তবে যা মরল একবারই মরল, যা যাবার একবারই গেলে দুনিয়া ছেড়ে, দ্বিতীয়বার আর কোনদিনও ফিরে আসবে না। যদি ভুল করে কিছু রেখে যাওয়া যায় নেবার জন্য আর ফিরে আসতে পারা যাবে না। দুনিয়ার মামলায় যদি নীচের কোর্টে মার খেয়ে যায়, কেউ ওপরের আপিলের কোর্ট পাবে। কিন্তু মরণের মামলায় কেউ যদি একবার মার খেয়ে যায় তবে আপিলের জন্য কোন কোর্ট-কাচারী আর থাকবে না। সুতরাং আপনি যখন আপনাকে একেবারেই ছেড়ে যাবেন, আপনি যা কোনদিনই ছিলেন তাই হবেন এবং এ মহাসংকটময় সময় আপনার জীবনে আসবেই। আপনি বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন আপনাকে সামনে রেখেই আপনাকে বাদ দিয়ে লোক গণনা করা হবে। সে সমস্যা জীবনে একদিন আসবেই। আপনার বিবি বিধবা হবেই, সন্তানগণ এতিম হবেই, সেটাকে খুব হালকা সমস্যা মনে করা উচিত নয়।

পরমাণু মানুষ (Atomic human) সম্পর্কে মাওলানা সাহেব বলেন, অনেকের মনেই এ প্রশ্নটা জাগে, মানুষ মরণের পরে কি হয়? হিন্দুরা পুড়িয়ে দেয়, মুসলমানরা বা খৃষ্টানরা মাটিতে গলিয়ে দেয়। অনেকেই অনেক রকম বিশ্বাস করে। কেউ বলে মানুষ মরার পরে শেষ হয়ে যায়, মাটিতে মিশে যায়, মরণের পূর্ব পর্যন্তই মানুষের জীবন। মরণের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবন চিরদিনের মতই ইতিপ্রাপ্ত হয়। বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে দেখা যাক, আসলে মরণের পরে মানুষের জীবনে কি পরিণতি হয়! বিজ্ঞানের মতে, মানুষ বলতে কিছু নেই অসংখ্য পরমাণু দিয়ে একটা মানুষের মূর্তি সৃষ্টি হয়েছে। প্রয়োজনবোধে পরমাণু নিয়ে একটু সংক্ষিপ্ত আলোচনা করতে হয়।

পরমাণু (Atom) সম্পর্কে আলোচনায় তিনি বলেন, আগের দিনে পরমাণুই ছিল বস্তুর ক্ষুদ্রতম অংশ। কিন্তু বিজ্ঞানের ক্রমোন্নতির সঙ্গে এ তত্ত্ব পাল্টে গেছে। এখন রাদারফোর্ড থেকে আরম্ভ করে আধুনিক বোরের তত্ত্বে পাওয়া যায়, একটা পরমাণুর ভেতরে রয়েছে আরও ক্ষুদ্রতম মূল কণিকা। প্রায় ১০০ (একশত) প্রকার মূল কণিকার অস্তিত্ব প্রকাশিত হয়েছে। তাদের তিনটি হচ্ছে স্থায়ী (Stable Element) আর বাকীগুলো হচ্ছে অস্থায়ী (Unstable Element)। স্থায়ী (Element) গুলো হচ্ছে ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন; অস্থায়ীগুলোর মধ্যে পজিট্রন (Positron), নিউট্রিনো (Neutrino), এন্টিনিউট্রিনো (Anti-neutrion) ও মেসন (Meson) ইত্যাদি প্রধান। একটা পরমাণু (Atom)- এর ভেতর ইলেকট্রন প্রোটনগুলো ঘূর্ণীয়মান অবস্থায় একটা সৌর বিশ্বের নিয়ম পালন করে চলছে।

একটি পরমাণু (Atom) এর ভেতর ইলেকট্রন প্রোটনগুলো ঘূর্ণীয়মান অবস্থায় একটা সৌর বিশ্বের নিয়ম পালন করে চলছে।

একটি পরমানুর (Atom) গঠনচিত্র  ( চিত্রটি এখানে দেওয়া গেলো না আমরা আন্তরিক ভাবে দুঃখিত)

ইলেকট্রন

প্রোটন

নিউট্রন

নিউক্লিয়াস

একটা ইলেক্ট্রন, প্রোটনের সঙ্গে এমন বজ্র বন্ধনীতে আটকে রয়েছে যে, যদি কোনক্রমে একটা ইলেকট্রনের বজ্র আটুনি থেকে একটা প্রোটনকে বিচ্যুত করা সম্ভব হয়, তাহলে যে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হবে তাতে আইনস্টাইন বলেন, “অবিভক্ত ভারতকে জ্বালিয়ে শেষ করে দেয়া যাবে।

মানব দেহকোষ (Human Cell) সম্পর্কে মাওলানা সাহেব বলেন, “দেহতত্ত্ব বিজ্ঞানীরা বলেন ত্রিশ কোটি কোটি কোষ দিয়ে একটা মানুষের দেহ তৈরি হয়েছে। প্রতিটি কোষে রয়েছে যথাক্রমে প্রোটোপ্লাজম (Protoplasm), সাইটোপ্লাজম (Cytoplasm)। সাইটোপ্লাজমের ভেতরে রয়েছে নিউক্লিয়াস (Nucleus), নিউক্লিয়াসের নিউক্লিয়াসের ভেতরে রয়েছে ক্রোমোজম। (Chromosome) এবং ক্রোমোজমের ভেতরে জিন (Gene) রয়েছে, আর জিনগুলোর ভেতরে নিউক্লিক এসিড (Nucleic acid) চলমান অবস্থায় বিরাজ

করছে। এই নিউক্লিক এসিডই হচ্ছে মানুষের জীবনীশক্তির উৎস।

Cell (কোষ)  ( চিত্রটি এখানে দেওয়া গেলো না আমরা আন্তরিক ভাবে দুঃখিত)

Flagela

Nucleus

Cytoplasm

Chromosomes

Ribosomes

Endoplasic Reticulum

Microtubule

Mitochondrion

Golgi apparatus

Centrioles

Chilia

Manikganj, Bangladesh.

The law of conservation of Mass and Energy –এর ব্যাখ্যায় মাওলানা সাহেব বলেন-

“বিজ্ঞান আবিস্কার করেছে। মানুষ কোন বস্তু সৃষ্টিও করতে পারে না আবার ধ্বংসও করতে পারেনা (The law of conservation of Mass and Energy)। মানুষ চেষ্টা দ্বারা বস্তুর রূপ বা আকার ইত্যাদি শুধু পরিবর্তন করতে পারে মাত্র। এ হিসেবে কোন বস্তুকে আগুনে পুড়লে বা পানিতে গলিয়ে দিলে এ বস্তু (Atom) কোনদিন কোন কালেই ধ্বংস হয় না, শুধু অন্যরূপে পরিবর্তিত হয় মাত্র। ঐ বস্তুর পরমাণুগুলো যে কোনরূপে রূপান্তরিত হোক না কেন চিরকাল

তাজা থাকে। কোনদিন ধ্বংস হয় না। মাওলানা সাহেব কর্তৃক আবিস্কৃত থিওরিটির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:

১. হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন মিলে বরফ তৈরী হয়, অর্থাৎ বরফের ভিতরে উপরোক্ত দুটি অণু নির্দিষ্ট পরিমাণে বিদ্যমান। এখন বরফকে যদি তাপ দেয়া হয় তাহলে বরফের আন্তআনবিক ক্ষমতা কমতে থাকে অর্থাৎ একটা

অণু যে শক্তিতে আরেকটা অনুকে জড়িয়ে ধরে রাখে সেই শক্তি কমতে থাকে। তারপর তাপ বাড়াতে থাকলে অনুগুলাে কাঁপতে থাকে। তারপর পানিতে পরিণত হয়ে যায়। এ অবস্থায় অনুগুলাের আন্তআনবিক ক্ষমতা

বরফের আন্তআনবিক ক্ষমতার চেয়ে অনেক কম থাকে। তাই বরফ শক্ত এবং পানি নাড়া চাড়া করা যায়। কিন্তু পানির ভিতরের অণুর কোন পরিবর্তন হয় নি। সেই হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনই রয়েছে। শুধু অণুর

ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে। এখন পানিকে যাদি আবার তাপ দেয়া হয়। তাহলে পূর্বের মত অণুগুলাে কাপতে থাকে এবং আন্তআনবিক ক্ষমতা আরাে কমতে থাকে। অর্থাৎ একটা অণু আরেকটা অনুকে ধরে রাখতে পারে না, ধরে রাখে তবে বরফের মত শক্ত করে না। শক্তি খুবই কম হতে থাকে। এভাবে আরাে তাপ বাড়ালে পানিটা বাতাসে পরিণত হয়ে যায়। কিন্তু ঐ বাতাসেও হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনই থেকে যায়। তার অর্থ হচ্ছে। হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন এক এক অবস্থায় এক এক শক্তিতে থাকে এবং এক এক পদার্থের নাম ধারণ করে। হাইড্রোজেন হাইড্রোজেনই থাকে ও অক্সিজেন অক্সিজেনই থাকে, হাইড্রোজেন বা অক্সিজেন নাইট্রোজেন হয়ে যায় না। শুধু বিভিন্নরূপ ধারণ করে মাত্র। প্রতিটি পরমাণুই একই ভাবে শুধু রূপান্তরিত হয় ঠিক মানব দেহের কোটি কোটি পরমাণুও অবস্থাভেদে রূপান্তরিত হয়ে থাকে মাত্র। লােহার অণুগুলাের আন্তআনবিক ক্ষমতা বরফের চেয়ে কয়েকশাে গুণ বেশী তাই লােহা এত শক্ত। লােহার অনুগুলাে খুবই শক্ত করে এক অপরকে জড়িয়ে ধরে রাখে। কিন্তু লােহাকে যখন প্রচণ্ড তাপ দেয়া হয় তখন বরফের অনুগুলাের মত কাপতে থাকে এবং অনুগুলাের আন্তআনবিক

ক্ষমতা কমতে থাকে। এভাবে একপায়ে নরম হয়ে যায় এবং লােহার কালাে রং ছেড়ে আগুনের লাল রং ধারন করে অর্থাৎ আন্তআনবিক ক্ষমতা খুবই কম থাকে, কিন্তু এ অবস্থাতেও লােহার অণুর কোন পরিবর্তন হয় । শুধু রূপের বা গঠনের বা শক্তির বা অনুর ক্ষমতার পরিবর্তন হয় । এভাবে তাপ আরাে বড়ালে লােহা নামের কঠিন পদার্থটি তরল পদার্থে পরিণত হয়। এবং একে তাপ দেয়া বন্ধ করে দিলে লােহা ধীরে ধীরে আবার কঠিন অবস্থায় ফিরে যাবে।

এখন মানবদেহের এক একটি অঙ্গের অনুর আন্তআনবিক ক্ষমতা এক এক প্রকারের, অর্থাৎ পেশীর অণুর আন্তআনবিক ক্ষমতা হাড়ের চেয়ে অনেক কম তাই পেশী নরম আর হাড় শক্ত। আবার ফুসফসে বা জিহবার

অণুগুলাে আরাে হালকা। মৃত্যুর পর এক এক অঙ্গের অণু এক এক অবস্থায় রূপান্তরিত হবে। কোনটা রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে বাতাসে। পরিণত হবে আবার কোনটা পানি আবার কোনটা মাটির সাথে থেকে মাটির রূপ ধারণ করবে তখন তাকে লােহার লাল রং ধারণ করার মত মাটি বলা যেতে পারে। কিন্ত ঐ মাটির সাথে মিশে যাওয়া অণুগুলাে বরফ বা লােহার অণুর মত রূপ পরিবর্তন করে আছে মাত্র। মাওলানা সাহেব বলেন, মানুষকে মানুষ ভেবে যারা মানুষের মরণের ব্যাখ্যা দিয়ে বলে মানুষ মরে যায়, শেষ হয়ে যায়, তারা হয়ত ভাবতে সময় পায়নি মানুষ

আসলে কি? তিনি বলেন, মানুষ বলতে কোন কিছু নেই। কোটি কোটি এ্যাটমকে (Atom) একত্রে জড় করে মানুষ সৃষ্টি করা হয়েছে। দেহ বিজ্ঞানের মতে জীবকোষ বিভক্ত হতে হতে প্রথম কোষ থেকে মাত্র পঞ্চাশ বা বায়ান্ন বার বিভক্ত হলেই প্রায় ত্রিশ কোটি কোটি কোষের অভিনব এবং অবিশ্বাস্য ভাবে মানুষ সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে।

বিজ্ঞান অনেক প্রশ্নের জবাব দিতে পারে না। তার একটি হচ্ছে জীবকোষগুলাে কেন বিভক্ত হয়? এবং প্রথম জীবকোষটি ত্রিশ কোটি কোটি হতে মাত্র পঞ্চাশ থেকে বায়ান্নবার বিভক্ত হয়। এটা কেমন করে সম্ভব? এবং এটাও খুবই আশ্চর্য বিষয় যে, গােটা মানব দেহটার এই যে পূর্ণ গঠন ও অবয়ব, পূর্ণ শরীরটার কোটি

কোটি এ্যাটমগুলাে কিভাবে পরস্পর সামঞ্জস্য রেখে দেহকে এত সুন্দরভাবে খাড়া করে চালিয়ে নিয়ে যায়। বিজ্ঞানের মতে প্রতিটি এ্যাটম তার নিজস্ব ক্ষমতায় ও শক্তিতে দেহে জীবন্ত থাকে। দেহ জীবন্ত থাকে বলে এ্যাটম জীবন্ত বা তাজা থাকে তা নয়। এবং বিজ্ঞানের এই গূঢ় কথাটি উপলব্ধি না হলে মানুষ সম্বন্ধে যত বড় জ্ঞানীই হােক না কেন, তার চিরদিনই একটা ভ্রান্ত ধারণা থাকবে । কোন সমস্যার মৌলিক তত্ত্ব সম্বন্ধে যদি কারও ভ্রান্তি থাকে তবে ঐ সমস্যার পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলাের কোনটাই শুদ্ধ হবে না ।

মানব দেহের অণুগুলাে জীবন্ত এবং জৈব শরীরের যত বিবর্তনই হােক না কেন দেহের অণুগুলাে কোনকালেই ধ্বংস হয় না। এরা বিভিন্ন রূপান্তর গ্রহণ করে মাত্র। যারা মনে করে মানুষ মরে গেলে তার দেহটা পঁচে যায় বা আগুনে পুড়লে ছাই বা ভস্ম হয়ে যায়, তাদের এই ধারণাটা একটা অলিক ও সেকেলে ধারণা। মরার পরে মানবদেহ পুড়েই যাক বা গলেই যাক বা দূর্ঘটনার ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাক বা জীব-জন্তুতে ভক্ষণ করুক মানুষ কোনদিনই ধ্বংস হয় না। আসল ঘটনা হচ্ছে, অসংখ্য অণুকে একটা প্রচ্ছন্ন জীবনীশক্তির অচ্ছেদ্য বন্ধন দিয়ে জালকের মত জড়িয়ে দেহকে চলমান করে রাখা হয়েছে। অণুগুলাে আপন শক্তিতে স্বকীয় সত্ত্বায় দেহে অস্তিত্বমান আছে। এই অদৃশ্য জীবনী শক্তিকে জীবাত্মা বলে ধারণা

করা হয়েছে, যার কারণে দেহের ভেতর নিউক্লিক এসিড সক্রিয় থাকে, তাতে করে মানবদেহ সজীব থাকে এবং দেহের বিভিন্ন সিস্টেমগুলাে কার্যক্ষম থাকে। যার ফলে মানুষ তার অনুভূতির জৈব বহিঃপ্রকাশ করতে সক্ষম হয়। যেমন সুখানুভূতি বা বেদনাবােধে হেসে বা কেঁদে মুখ ভঙ্গিমায় ঠোট নেড়ে চেড়ে প্রকাশ করতে পারে। অন্যান্য ক্ষেত্রে অঙ্গ নড়াচড়া করে জৈব অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ করতে পারে। জীবাত্মা যখন নিরব হয় দেহের সকল অঙ্গের সকল অণুগুলাের তার সঙ্গে মরণ ঘটে না। তারা অবিকল তাজা থাকে এবং দেহের সর্বপ্রকার অনুভূতি বিরাজমান থাকে। যেমন- হাসি-কান্না, বােধ-বেদনা ইত্যাদি পঞ্চ ইন্দ্রিয়গুলাে অবিকৃত অবস্থায় ঠিক থাকে। কিন্তু জীবাত্মা না থাকার কারণে ইন্দ্রিয়গুলাে স্তিমিত অবস্থায় স্পন্দনহীভাবে থাকে। যেমন- অত্যন্ত দুর্বল রােগী দেখে, শােনে, মশা দংশন করলে অনুভব করে, নড়াচড়া করতে পারে না। চাঁদনী শুভ্রা যামিনী আর পাপিয়ার গান তাকে মাধুরিমা দেয়। বসন্তের দক্ষিণা মলয় তাকে স্বাপ্নিক করে তােলে কিন্তু সে কাউকে তার মনের কথা খুলে বলতে পারে । তার বােবা মন শুধু অনুভূতিশীল কিন্তু অভিব্যক্তিহীন নির্বাক। মানুষের মরণের পরেও ঠিক এমনি ঘটনা ঘটবে। দেহের অসংখ্য অণুগুলাে জীবাত্মার সান্নিধ্যে থাকাকালীন তাদের অজৈব শরীরে জৈব শক্তির একটা নিবৃত প্রবাহ সক্রিয় হয়ে থাকবে, যেমন- চুম্বকের সঙ্গে থাকতে থাকতে সাধারণ লােহাও চুম্বক

শক্তিপ্রাপ্ত হয়, চুম্বকপ্রাপ্ত লােহার টুকরাটি যেখানেই নেয়া যাক, আসল চুম্বকের গুণাগুণ তার মধ্যে বিরাজমান থেকে যায় যদিও সে আসল চুম্বকের মত শক্তিশালী থাকুক না থাকুক।

দেহ থেকে যখন জীবনীশক্তি বা চলচ্ছক্তি সরে যায়, মানুষকে কবরে নেয়া হয়, যখন মানুষটি কবরের ভেতরে নিরব হয়ে শুয়ে থাকে কিন্তু তার দেহে সম্পূর্ণ অনুভূতি শক্তি বিদ্যমান থাকে এবং এটা অত্যন্ত জটিলতর ভাবেই থাকে। যেভাবে চলমান অনুভূতি সর্ব অঙ্গে বা বিভিন্ন অঙ্গে বিভিন্ন ভাবে থাকে, কবরের মানুষের মধ্যে অনুভূতি থাকে না। প্রশ্ন হতে পারে, দেহ যখন পঁচে গলে যায় অথবা পুড়িয়ে দেয়া হয় তখন অনুভূতি কোথায় থাকে। কথাটা ভাববার মত । আমরা স্থূল জ্ঞান দিয়ে এবং স্কুল চক্ষু দিয়ে যা বুঝি বা দেখি তার বাইরেও অনেক অনেক বিষয় আছে যা স্থূলজ্ঞানে বা যুক্তিতে বা দৃষ্টিশক্তিতে ধরা পড়ে না ।

প্রেমানুভূতি, ভালবাসা, ব্যাধিপীড়ার যন্ত্রণা, ব্যর্থতার অভিক্ষেপ, সর্প দংশন জ্বালা, বিচ্ছেদ-বেদনা, প্রসব ব্যাথা ইত্যাদি আরও অনেক বিষয় আছে যা কোনদিন জ্ঞানে বা যুক্তিতে বা দৃষ্টিতে ধরা পড়বে না। দেখিনা-বুঝিনা-জ্ঞানে খাটে না বলে সব বিষয় বা স্বত্বাকে বা সত্যকে উড়িয়ে দেয়া যাবে না। সারা দুনিয়ায় বিলকুল মানুষ যদি পুরুষ হয় এবং তার মধ্যে মাত্র একজন নারী থাকে এবং সে প্রসব ব্যথায় ভােগে, দুনিয়ার কোন বৈজ্ঞানিক এবং দার্শনিক বা যে কোন নম্বরের জ্ঞানীলােক এই একটি প্রসব ব্যথা অনুভূতি জ্ঞান খাটিয়ে বা যুক্তি দিয়ে অনুধাবন করতে পারবে না এবং পারবে না বলে প্রসব ব্যাথাকে তাে অস্বীকার করা যাবে না।

কথাটার সার হয় এই, সারা দুনিয়ার সমস্ত জ্ঞানী-গুণীকে একজন নারীর নিকটে মাথা নত করে একটা সত্যকে মেনে নিতে হবে, সে যেমন করে ব্যথার কথা বলে, ঠিক তেমন করে মেনে নিতে হবে। কোন যুক্তিই চলবে না। কবরে মানুষ কেমন হয়, মরণ কি, মরণের পরে কেমন ঠেকে, প্রিয়জনহারা হয়ে চির কাঙ্গাল হলে, বেদনাতুর হৃদয়ে রােরুদ্যমান স্ত্রী কাফনের সম্মুখে দাঁড়িয়ে বেদনা স্বামীর আর্ত দেহের উপর ঝরাতে থাকলে, স্নেহসিক্ত সন্তানরা এতিম হয়ে কাফন ধরে টানতে টানতে নিস্তব্ধ পিতার বুকে মাথা ঠুকলে, কেমন যে লাগে তা শুধু ঐ প্রসব ব্যাথাবিদ্ধা নারীর মত, ঐ বিদায়ী পথিকটিই অনুধাবন করতে পারবে। আর কেউ জ্ঞান দিয়ে বুঝতে পারবে না ।

অনেক অনেক সমস্যা আছে যা ঐ সমস্যায় না জড়ালে বােঝা যাবে না। যতদিন স্বাস্থ্য ভাল থাকে ব্যাধি পীড়ার যন্ত্রণা কোনদিন অনুমানে ধরা পড়বে না । যতদিন দাঁত থাকে দাঁত হারালে কি ঘটে তা অনুভব করা যায় না। এমনি যতদিন দেহে জীবন থাকে মরণের অভিজ্ঞতা বুঝে আসা সম্ভব নয়। মরণই একমাত্র মরণের অভিজ্ঞতা সম্যকভাবে দিতে পারে। প্রশ্ন হতে পারে মরণের পরে দেহ যখন এলিয়ে যায়, অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, দেহের কোষগুলাে কোটি কোটি ভাগে বিভক্ত হয়ে শশ্মানে ছাইয়ে পরিণত হয় বা কবরের মাটি শুকিয়ে ধূলিকণা হয়ে হাওয়ার সঙ্গে জীবদেহের পরমাণুগুলাে মিশে তেপান্তরের অন্তরালে হারিয়ে যায় অথবা পানিতে ডুবন্ত মানুষেকে মাছে খায় বা বিমান দুর্ঘটনায় ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে বিভিন্ন জীবজন্তুর পেটে চলে যায় এমতাবস্থায় মানুষের অনুভূতি থাকার সিস্টেমইতাে নেই৷

আগেই বলা হয়েছে, মানুষ মরার পরে তার ইন্দ্রিয় অনুভূতি অর্থাৎ শ্রবণশক্তি, দর্শন শক্তি, অনুভব শক্তি ইত্যাদি কিভাবে যে বিদ্যমান থাকে তা অত্যন্ত জটিল ব্যাপার। মানুষের নাভীস্থলটি হচ্ছে মানবদেহের দানা বা বীজ স্বরূপ। প্রতিটি ফল-ফসলের একটা বীজ আছে। এবারের ফসল হারিয়ে গেলে আগামীবার তার বীজ থেকে আমরা এবারের হারানাে গাছটি অবিকল আসলরূপে, আসল স্বত্ত্বাসহই ফেরত পাই। যেমন- একটা চাল কুমড়া গাছে ত্রিশটি কুমড়া ধরল । ত্রিশটা কুমড়া চাল থেকে আগামী বছর একটা করে চাল ভরা কুমড়া গাছ হবে সন্দেহ নেই। কিন্তু এই বীজগুলাের প্রত্যেকটি ভাংগলে দেখা যাবে খােসার ভেতরে একটি করে সাদা শাঁস আছে। বিশ্বের কোন শক্তিশালী অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও ঐ শাঁসের ভেতরে কুমড়ার বড় বড় ঢালা সবুজ পাতা দেখা যাবে না, গাছের শিকড় দেখা যাবে না, কুমড়া দেখা যাবে না, ফুল দেখা যাবে না। তাহলে শুধু শাসের ভেতরে এত কিছু অতি গােপনে লুকিয়ে থাকতে পারল?

শুধু এ ক্ষেত্রেই নয় অন্যান্য ক্ষেত্রেও এমন আশ্চর্য ব্যাপার লক্ষ্য করা যায় । পাথরকুঁচি গাছের শুধু একটা পাতার খণ্ডের ভেতরে সম্পূর্ণ আসল গাছটি লুকিয়ে থাকে। এই গাছের পাতা সিলেট থেকে তুলে নিয়ে আমেরিকার একটু ভেজা মাটিতে রেখে দিলে কিছুদিন পরে দেখা যাবে ঐ পাতায় ভর করে সিলেটের পাথর কুঁচির পাতার কণা আমেরিকায় আসল গাছ হয়ে জেগেছে ।

‘মহাস্বপ্ন’ কিতাবটি মূলত দর্শন ও বিজ্ঞানের নির্যাস যার প্রতিটি বিষয় নিয়ে উচ্চতর বিজ্ঞানের গবেষকদের অফুরন্ত গবেষণার সুযােগ রয়েছে। কিতাবটিতে অগণিত থিওরি ও অনুসিদ্ধান্ত পরিলক্ষিত হয়েছে। আমরা এখানে শুধু মূল থিওরিটি, নিয়ে আলােচনার প্রয়াস পেয়েছি।

সারকথা

বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ এখানে নেই কোন উন্নত ল্যাবরেটরী উন্নতপ্রযুক্তি। ইতিপূর্বে বেশ কিছু বাংলাদেশী বিজ্ঞানীর আবিস্কৃত থিওরি দিয়ে বিদেশী বিজ্ঞানীরা গবেষণা করেছে এবং তাদের সাফল্য ও নাম বিশ্বে ছড়িয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ একটি আবিস্কারের কথা বলবাে; তা হলাে রেডিও আবিস্কার। এ রেডিও গান শুনার যন্ত্র নয় এটি হচ্ছে একটি তরঙ্গ (Wave) যা বেতারের (wireless) ক্ষুদ্রতম অংশ। ঐ বিজ্ঞানী তার wireless telegraphy- র মাধমে ১৮৯৫ সালে বিশ্বে প্রথম বারের মত প্রায় ১ মাইল দূরে তার বাসা হতে কলকাতা প্রেসিডেন্সী কলেজে বিনাতারে (wireless) বৈদ্যুতিক তরঙ্গেও মাধ্যমে শব্দ আদান প্রদান করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। এর ফলে আজকে রেডিও, টেলিভিশন, মােবাইল ফোন, কৃত্রিম উপগ্রহ (Satellite) ইত্যাদি আবিস্কার সম্ভব হয়েছে। এমন কি দূরপাল্লার ক্ষেপনাস্ত্রও ঐ রেডিও থিওরির কারণেই হয়েছে। কিন্তু এ বিশ্বের অনেকেই জানে না যে রেডিও তরঙ্গের (Radio Wave) আবিস্কারক একজন বাংলাদেশী। সে বিক্রমপুরের কৃতি সন্ত নি আচার্য স্যার জগদিশ চন্দ্র বসু। দুঃখের বিষয় হল- ১৮৯৬ সালে বসু স্যারের সহপাঠি ইতালীর বিজ্ঞানী মার্কনী তার থেকে থিওরিটি শুনে wireless telegraphy -ও প্রথম পেটেন্ট দিয়ে দিলেন এবং রাতারাতি বৃটেনে বিজ্ঞানী মহলে ব্যপক পরিচিতি পেলেন। যাহােক বাংলাদেশবাসী কি জানত আচার্য জগদিশ চন্দ্র বসু স্যারের থিওরির ফলে আজ বিশ্বে এত কিছু আবিষ্কার হবে বা তার পরােপুরি স্বীকৃতি কি বাংলাদেশ পেয়েছে? আচার্য স্যার জগদিশ চন্দ্র বসু আবিষ্কার করেছেন- “গাছেরও প্রাণ আছে এবং অনুভতি আছে” তার আবিষ্কারের পূর্বে বিশ্ববাসী গাছকে জড় পদার্থ ভাৰত। এ কথাগুলাে বলার কারণ হচ্ছে। ‘মহাস্বপ্ন’ নামক গবেষণামূলক গ্রন্থে অধ্যাপক হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম সিদ্দিকী (রহ.) স্যার যে থিওরি আবিষ্কার করেছেন সেই থিওরি দিয়ে ভবিষ্যতে কি আবিস্কার করা হবে আজকে মানুষ তা অনুধাবন করতে পারছে না, ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট লন্ডন, ইংল্যান্ড এর ডক্টর অব ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষক, প্রকৌশলী এম. আর. হক এর মতে, অদূর ভবিষ্যতেই থিওরিটির ফলে বাতাস থেকে মানুষের জিন সনাক্ত করা সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ ।

নামকরণের সার্থকতা

পৃথিবীতে নতুন কোন থিওরি আবিস্কার করা অত্যন্ত কঠিন বিষয়। নিরলস গবেষণা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই সম্ভব নতুন কিছু সৃষ্টি করা। পৃথিবীর সকল মানুষের জ্ঞান সমান নয়। বৈজ্ঞানিক আলবার্ট আইনষ্টাইন যখন সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব জুরিখে লেকচার দিতেন তখন তার ক্লাস ভরা ছাত্রদের মধ্যে মাত্র দুই জন তাঁর লেকচার অনুধাবন করনে পরতেন। বাকী ছাত্ররা তাৎক্ষণিক ভাবে বুঝতে অক্ষম ছিলেন। কারণ তাদের মস্তিস্ক হয়তো ঐ দুই জনের মত ক্রিয়াশীল ছিল না। তাদের কাছে অনেক কিছুরই কাল্পনিক বা রূপক বা স্বপ্নের মত মনে হতাে। ঠিক একইভাবে আমরা মনে করি অধ্যাপক সিদ্দিকী সাহেব রচিত ‘মহাস্বপ্ন’ কিতাবের বিষয়াদি ও থিওরির থিম অতি উচ্চপর্যায়ের হওয়ার ফলে তৎকালীন সাধারণ মানুষ ও মানবিক বা বাণিজ্য বিভাগের ছাত্রদের জন্য এটি স্বপ্নের মতই ছিল। বর্তমানে পৃথিবীর জিন তত্ত্ব, ক্লোনিং থিওরি, মাইক্রোবায়োলজি, উচ্চতর কম্পিউটার বিজ্ঞান ইত্যাদির আবিস্কারের ফলে থিওরিটি গবেষকদের নিকট সত্য বলে প্রমাণিত হচ্ছে। তাই নিঃসন্দেহে কিতাবটির নাম ‘মহাস্বপ্ন’ যথার্থ ও সার্থক হয়েছে বলে আমরা অবলোকন করি।

প্রচ্ছদ পরিচিতি

এ কিতাবের সম্পূর্ণ প্রচ্ছদটি অধ্যাপক সিদ্দিকী সাহেব (রহ.)-এর স্ব-হস্তে রংতুলিতে অঙ্কিত নকশা। এখানে কিতাবের ভিতরের মূল থিওরিটি যথার্থ ও নির্ভুলতভাবে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি পাহাড়ের পাদদেশে একটি কবর অংকন করেছেন। পরিবেশটি ভোরবেলা অথবা স্নিগ্ধ বিকেলবেলা বলে দৃষ্ট হয়।

কবরের উপর বজ্রপাতের ন্যায় শাস্তি বা শান্তির নূর উভয়কেই বুঝিয়েছেন বলে আমাদের মনে হয়। আর কবরের ঠিক মাঝখানে থেকে কালো ধুয়ার মত কোটি কোটি পরমাণু মানুষকে বুঝিয়েছন এ অসংখ্য পরমাণু মানুষ বাতাসে ছড়িয়ে পরছে। যা তাঁর আবিস্কৃত থিওরির মূল বিষয়। এ চিত্রকর্ম থেকে মাওলানা সাহেবের শিল্পী পরিচয় ফুটে উঠেছে । যা জানতে পেরে আমরা বিস্মিত না হয়ে পারছি না। মহান আল্লাহপাক তাঁর ওলীকে অগণিত প্রতিভা দিয়ে দুনিয়াতে প্রেরণ করেন মাওলানা সহেবের বহু প্রতিভাই তার জ্বলন্ত স্বাক্ষর বহন করছে । প্রচ্ছদটি কিতাবের প্রকাশক মাওলানা সাহেবের বড় সাহেবজাদা ও প্রধান খলিফা ড. মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম সিদ্দিকী সাহেবের হুকুমে প্রকৌশলী মুহাম্মাদ রিয়াজুল হক কম্পিউটার গ্রাফিক্সে নিখুঁতভাবে হুবহু রূপান্তর করেছেন।

 

বিস্তারিত জানতে ‘‘ জীবন দর্শন ও তাসাউফ চর্চা ‘’ কিতাবটি পড়ার অনুরোধ রইলো।  রচনা ও সংকলন করেছেন- গবেষক মো: সেলিম-উল ইসলাম সিদ্দিকী সাহেব ।  যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এম.ফিল. ডিগ্রী লাভ করেন । 

 

 

 

Lorem Ipsum

Designed by Mohd Nassir Uddin