• Sunrise At: 5:50 AM
  • Sunset At: 5:46 PM
[email protected] +88 01975539999

সকল বালা-মুসীবত হইতে হেফাযতের ও বৈধ মনােবাঞ্ছা পূরণের ওযীফা

 حَسْبِيَ اللَّهُ لا إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ

উচ্চারণঃ হাছবিয়াল্লাহু লা-ইলাহা ইল্লা-হু আলাইহি তাওয়াক্বালতু ওয়া হুয়া রাব্বুল আরশিল আযীম।

অর্থ :  আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট; তিনি ব্যতীত আর কোন মাবুদ নাই। এবং তিনি সুমহান আরশের মালিক।

হাদীস ও হযরত আবু-দারদা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম ফরমাইয়াছেন :

যে-ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় সাত বার করিয়া উক্ত ওযীফা পাঠ করিবে, তাহার দুনিয়া ও আখেরাতের তামাম চিন্তা-ভাবনা ও পেরেশানীর জন্য আল্লাহপাকই কাফী-সমাধানকারী হইয়া যাইবেন। (রূহুল-মাআনী, ১১ পারা, ৫৩ পৃষ্ঠা)।

গূঢ় রহস্য : আল্লাহপাক যে এই ছােট্ট আয়াত-টুকরা পাঠকারীর দুনিয়া ও আখেরাতের সকল কাজ ও চিন্তাভাবনার যিম্মাদার ও সমাধানকারী হইয়া যান, ইহার রহস্য কি? রহস্য এই যে, বান্দা ইহাতে আল্লাহ্ তা’আলাকে রাব্বুল আরশিল আযীম’ তথা বিশাল ও মহান আরশের মালিক বলিয়া স্বতঃস্ফূর্ত ঘােষণা প্রদান করে। আর আরশে-আযীম হইল জগতকুলের মারকা বা মূল কেন্দ্র, যেই কেন্দ্র হইতে দুনিয়া ও আখেরাতের সমস্ত বিষয়ের ফয়সালা জারী হইয়া থাকে ।

তাই, বান্দা যখন সেই আরশে-আযীমের মহান মালিকের সঙ্গে আপন সম্পর্ক গড়িয়া লয়, বস্তুতঃ সে তখন জগত সমূহের সর্ববিধ শৃংখলা ও ফয়সালার মূলকেন্দ্রের মালিক ও সেই মহান সিংহাসনের মহামহিম বাদশার আশ্রয় প্রাপ্ত হইয়া যায়। তাই, এত বড় মহীয়ান্-গরীয়ান বাদশার ‘আশ্রয় লাভের পর তাহার চিন্তা-ভাবনা, হয়রানি-পেরেশানী আর কিভাবে থাকিতে পারে ?

যেমন, হিন্দুস্তানের মশহুর বুযুর্গ হযরত খাজা আযীযুল-হাসান মজব’ (রঃ) বলিয়াছেন ?

جو تو میرا تو سب میرا قلب میر ان میں میری

اگر ات تو نہیں میرا تو کوئی شی نہیں میری

(জো তু মেরা, তাে ছব মেরা, ফালা মেরা, যমী মেরী

আগার এক তৃ নাহী মেরা, তাে কো-য়ী শাই নাহী মেরী)

অর্থ : ও ‘আয় আল্লাহ! আপনি যদি আমার হইয়া যান, তবে এই আসমান-যমীন সবকিছুই আমার । কিন্তু সব থাকা সত্ত্বেও একমাত্র আপনাকে যদি হারাইয়া বসি, তাহা হইলে আমার বলিতে আর কিছুই নাই। তবে ত সবই ধ্বংস, সবই বরবাদ হইয়া গেল। তখন ত আমার সব কিছুতেই আগুন লাগিয়া গেল । তুমি আমার সবি আমার আকাশ আমার, হারাই যদি শুধু তােমায় কপালপােড়ার নাই কিছু আর ।

ইবনে-নাজ্জার তাঁহার স্বরচিত ইতিহাস-গ্রন্থে হযরত হুসাইন রাযিয়াল্লাহু আনহুর বরাতে লিখিয়াছেন যে, 

যে ব্যক্তি সকাল বেলা হাছবিয়াল্লাহু (পূর্ণ) সাতবার পাঠ করিবে, সে ঐদিন এবং ঐ রাতে কোনও বে-চাইনী, পেরেশানী বা বালা-মুসীবতে পতিত হইবেনা এবং পানিতে ডুবিবে না। (রূহুল-মাআনী, ১১ পারা, ৫৩ পৃষ্ঠা)

একটি আশ্চর্য ঘটনা

হযরত মুহাম্মদ ইবনে-কা’ব (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, একবার একটি ফৌজি-কাফেলা রােমের দিকে অগ্রসর হইতেছিল। তাহাদের মধ্য হইতে এক ব্যক্তি ঘােড়ার পৃষ্ঠ হইতে পড়িয়া গিয়া তাহার উরুর হাড্ডি ভাঙ্গিয়া গেল। কিন্তু, সঙ্গীগণ তাহাকে বহন করিয়া লইয়া যাওয়ার মত কোন উপায়ান্তর না দেখিয়া বড় বিপাকে পড়িলেন। অতঃপর তাহার জন্য কিছু খাদ্য-পানীয় ও সামান-পত্রের ব্যবস্থা করতঃ তাহার ঘােড়াটিকে তাহার পার্শ্বে বাঁধিয়া রাখিয়া তাহারা সকলে সম্মুখে অগ্রসর হইয়া গেলেন। ইহার পর এক গায়বী লােক আসিয়া তাহাকে জিজ্ঞাসা করিল, ওহে, তােমার কি হইয়াছে? উত্তরে সে বলিল ঃ আমার উরুর হাডিড ভাঙ্গিয়া গিয়াছে এবং আমার সঙ্গীগণ আমাকে ফেলিয়া চলিয়া গিয়াছেন। গায়বী লােকটি বলিল, যে-স্থানে কষ্ট অনুভব করিতেছ সেখানে হাত রাখিয়া পড়: ফা-ইন তাওয়াল্লাও ফাকুল হাছবিয়াল্লাহু (পূর্ণ)। তিনি তাহার ক্ষতস্থানে হাত রাখিয়া উক্ত আয়াতখানা পাঠ করিবার সঙ্গে-সঙ্গে সম্পূর্ণ সুস্থ হইয়া গেলেন । অতঃপর নিজের ঘােড়ায় সওয়ার হইয়া সাথীদের নিকট পৌছিয়া গেলেন। (রুহুল-মাআনী, ১১ পারা, ৫৪ পৃষ্ঠা)।

বিখ্যাত বুযুর্গ আল্লামা আলুসী (রহঃ)-এর আমল

বিখ্যাত মুফাসসির আল্লামা আলুসী (রহঃ) বলেন, বহু বছর যাবত এই আয়াতখানা পাঠ করা এই ফকীরের

আমলের অন্তর্ভুক্ত। এই নেয়ামতের জন্য আল্লাহপাকের শােকর । সর্বোত্তম তওফীদাতা আল্লাহপাকের দরবারে দরখাস্ত করি, তিনি যেন আমাদিগকে উক্ত আয়াতের বরকতে প্রভূত নেকী ও ভালাইর তওফীক দান করেন।

ফায়দাঃ এই ওযীফা আদায়ের পর দোআও করিবে যে, আয় আল্লাহ, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম-এর সুসংবাদের বরকতে এই আয়াতখানাকে উছলা করিয়া আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতের তামাম চিন্তা-ভাবনা, হাজত্-যরতের জন্য আপনিই কাফী-যিম্মাদার ও সমাধানকারী হইয়া যান ।

 

Designed by Mohd Nassir Uddin