• Sunrise At: 5:50 AM
  • Sunset At: 5:45 PM
[email protected] +88 01975539999

 হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রঃ)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রঃ) উম্মতে মুহাম্মাদীর এমন এক ব্যক্তিত্ব যার আলােচনায় মানসলােকে ওমনােরাজ্যে মুহাব্বতের হিল্লোল বয়ে যায়। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রঃ) দ্বিতীয় শতকের বুযুর্গদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তবে কেমন যেন তিনি ঐ সময়কার বুযুর্গ; যখন থেকে হুজুরের (সাঃ) তিরােধানের ব্যবধান মাত্র এক বৎসর। তিনি ইমাম বুখারীর (রঃ) পূর্ব পুরুষ। তিনি হযরত ইমাম আজম আবু হানীফা (রঃ)-এর সমকালীন ব্যক্তিত্ব এবং তার সুযােগ্য শাগরেদও ছিলেন । হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রঃ) ১১৮ হিজরীতে খােরাসান শহরের ‘মারব’ নামক স্থানে জন্ম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি বাগদাদের অধিবাসী হন এবং বাকী জীবন সেখানেই অতিবাহিত করেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রঃ) এর জীবনের গতি পরিবর্তনের বিস্ময়কর ঘটনা

হযরত শাহ্ আব্দুল আজীজ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রঃ) তার বুস্তানুল মুহাদ্দিসীন’ গ্রন্থে ঘটনাটি এ ভাবে উল্লেখ করেন যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রঃ)-এর অনেক বড় একটি আপেলের বাগান ছিল । তিনি ছিলেন স্বাধীন চেতা। না ছিল ইলমের সাথে কোন সম্পর্ক, আর না দ্বীনের সাথে । মদের আডডা ও গান-বাজনার মধ্যেই কেটে যেত তার দিন-রাত। একবার আপেলের মৌসুমে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজেদের বাগানে চলে গেলেন। উদ্দেশ্য আপেল খাওয়া ও আমােদ-প্রমােদ করা । তাই তিনি সেখানে দিন কাটাতে লাগলেন। এ  দিকে বাগানে বন্ধু-বান্ধবদের জন্য গান বাজনার বিরাট আয়ােজন করা হল । পাশাপাশি মদ পানের ব্যবস্থাও রাখা হল। উল্লেখ্য, তিনি বাদ্যযন্ত্র নিপুনতার সাথে বাজাতে জানতেন এবং উচ্চ পর্যায়ের একজন সঙ্গীতজ্ঞও ছিলেন। এ দিকে মদের নেশা আর বাদ্যের তালে তিনি এক সময় নিদ্রা কোলে ঢলে পড়েন। কিছুক্ষণ পর জাগ্রত হয়ে দেখেন তার

বাদ্য যন্ত্রটি তার কোলে পড়ে আছে। তখন তিনি পুনরায় বাদ্য যন্ত্র বাজাতে চাইলেন। কিন্তু ঐশী ইশারায় যন্ত্রটি কিছুতেই বাজলােনা। কোন আওয়াজই আসলােনা। তখন তিনি সেটি ঠিক করে পুনরায় বাজাতে চাইলেন। কিন্তু এতেও কাজ হল না। ব্যর্থ হয়ে আবার মেরামত করলেন এবং বাজাতে চাইলেন। কিন্তু এবার সে যন্ত্র থেকে সঙ্গীতের আওয়াজের পরিবর্তে কোরআনে কারীমের এ আয়াতটি ধ্বনিত হতে লাগল।

الباني يلين أمنوا أن تخشع قؤهم پيكر الله وما نزل من الحي –

অর্থ: এখনও কি ঈমানদারদের জন্য সে সময় আসেনি যা স্মরণে তাদের অন্তর সমূহ নম্র হয়ে যাবে ?

এবং আল্লাহ তায়ালা যে চির সত্য বাণী অবতীর্ণ করেছেন, তার জন্য তাদের অন্তর সমূহ বিনয়ী হবে। এক বর্ণনায় দেখা যায় যে, এই আওয়াজ বাদ্যযন্ত্র হতে এসেছিল। অবশ্য অন্য এক রেওয়ায়েতে দেখা যায়, তিনি যে স্থানে বসা ছিলেন তার নিকটে একটি গাছে একটি পাখী বসা ছিল; সে পাখীর মুখ থেকে এ আওয়াজ বেরিয়ে ছিল । কিন্তু কথা হল এ ধ্বনি যে সিঁড়িই ডিঙ্গিয়ে আসুক না কেন এর উৎস যে আল্লাহ তায়ালা; তাতে বিন্দু মাত্রও সন্দেহের অবকাশ নেই। কারণ আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছা ছিল তাকে হিদায়েতের আলােকরশ্মী দান করা।

ঐশী এ অনুরণন আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রঃ)-এর অন্তরে রেখাপাত করল । হৃদয়ের মেঘাচ্ছন্ন আকাশে হঠাৎ বিজলী চমকে উঠল। তখন তিনি বলে উঠলেন, হায় ! এ পর্যন্ত আমি আমার জীবনের মূল্যবান সময়গুলােকে কোন কাজে ব্যয় করেছি। এরপর

بلی یارب قد آن – بلی یا رب قد آن

অর্থাৎ ,হে প্রভু! আর দেরী নয়। এক্ষুণি আমি আমার সকল ব্যস্ততা এড়িয়ে তােমার দিকে মনােনিবেশ করছি।

বুস্তানুল মুহাদ্দিসীন পৃঃ- ১৫৫

সেখান থেকে ফিরে এসে আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রঃ) জ্ঞানার্জনে এমন ভাবে ব্যাপৃত হন যে, পরবর্তীতে তিনি একজন যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দীস, বুযুর্গ এবং পরবর্তী জাতির জন্য একজন রাহবার হয়ে কিয়ামত পর্যন্ত অমর হয়ে থাকেন।

হযরত ইসমাঈল ইবনে আব্বাস তার সম্পর্কে বলেন : আমি পৃথিবীর বুকে আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রঃ)-এর মত কোন লােক

দেখিনি এবং তার মত উত্তম চরিত্রের অধিকারী করে তার যুগে আল্লাহ তায়ালা অন্য কাউকে সৃষ্টি করেছেন বলে আমার জানা নেই। বড় বড় মাশায়েখে কেরামগণও তাঁর সাহচর্যে থেকে ধন্য হয়েছেন। তিনি তাঁর জীবনকে তিন ভাগে বিভক্ত করে অতিবাহিত করতেন। তিনি এক বৎসর হজ্ব করতেন। দ্বিতীয় বৎসর জিহাদের ময়দানে কাটাতেন এবং তৃতীয় বৎসর ব্যবসা করতেন। ব্যবসায় তিনি যে লাভ করতেন তা গরীব মিসকিনদের মাঝে বন্টন করে দিতেন।  তিনি এক বার এক স্থান দিয়ে যাচ্ছিলেন, লােকেরা তাঁকে আসতে দেখে এক অন্ধ ব্যক্তি কে বলল, আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক আসছেন, তােমার কিছু চাওয়ার থাকলে তার নিকট চেয়ে নাও। যখন তিনি অন্ধের একেবারে কাছাকাছি এলেন, তখন অন্ধ দৃষ্টি শক্তি ফিরে পাওয়ার জন্য তার নিকট দোয়ার দরখাস্ত করল । হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (র:) তার জন্য দোয়া করলেন। অন্ধ লােকটি সাথে সাথে দৃষ্টি শক্তি ফিরে পেল ।

এই মহামনীষী ১৮১ হিজরীতে ইহলীলা সাঙ্গ করে আল্লাহ সান্নিধ্যে চলে যান ।

 

Designed by Mohd Nassir Uddin