• Sunrise At: 5:49 AM
  • Sunset At: 5:48 PM
[email protected] +88 01975539999
জন্ম ও বংশ পরিচয়ঃ

বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, দার্শনিক, অন্যতম চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও গবেষক, শাইখুল হাদীস, হযরত মাওলানা মুফতি ড.মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব ১৯৬৬ সালের ৯ মার্চ, মানিকগঞ্জ জেলার অর্ন্তগত মানিকগঞ্জ থানার ছিদ্দিকনগরে সুপরিচিত সম্ভ্রান্ত, শিক্ষিত, অলী ও সাইয়্যেদ পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি দুনিয়াতে আসার পূর্বে তাঁর পিতা কুতুব-উল-আকতাব আলহাজ্ব অধ্যাপক হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব (রাহঃ) মহান আল্লাহর নিকট চোখের পানি ঝরিয়ে দু‘আ করেছিলেন, তাঁর ভাষায়, “মাবূদ আপনি আমাকে একটি ছেলে সন্তান দান করেন এ সন্তানকে আপনি হযরত বড় পীর আবদুল কাদির জিলানী (রাহ.) এর মত একটি রুহ মুবারক দিয়েন, এ ছেলেকে আমি আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ করে দিব” যুগ শ্রেষ্ট এ উচ্চস্তরের অলী যাকে দু’আ  করে  দুনিয়াতে এনেছেন তিনি অবশ্যই ব্যতিক্রম। তাঁর মাতার নাম মোসাম্মৎ নূরুন নাহার ছিদ্দিকা, তিনি ইসলামী জীবন ব্যবস্থার আর্দশ অনুসারী ও একজন উচ্চপর্যায়ের পরহিযগার তাপসী, তাঁর সম্পর্কে কুতুব-উল-আকতাব বলেছিলেন, আমি ইসলামের যতটুকু খিদমত করতে পেরেছি সব কিছু আপনাদের আম্মা হুজুরের জন্য, তিনি যদি আমার সকল কিছু ভিতর থেকে গুছিয়ে না দিতেন আমি কিছুই করতে পারতাম না। তিনি অত্যন্ত উচ্চ বংশের কন্যা। ড. মুহাম্মাদ মনজুরুর ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিবের দাদার নাম আলহাজ্ব অধ্যাপক হযরত মাওলানা সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ নছিমুজ্জামান ছিদ্দিকী ছাহিব (রাহ.), যিনি তেরশ্রী কলেজের একজন অত্যন্ত উচ্চজ্ঞান সম্পন্ন আর্দশ শিক্ষক ও হাক্বানী ‘আলিম ছিলেন, তিনি উর্দূ কবি হিসেবে খ্যাত ছিলেন। তাঁর দাদামহ ডা: সাইয়্যেদ আবদুল জাব্বার ছিদ্দিকী ছাহিব (রাহ.) তৎকালনী একজন খ্যাতনামা বিলাত ফেরত সার্জন ও ইসলামী চিন্তাবিদ ছিলেন। তিনি ফারসী ভাষার উচ্চ স্তরের কবি ছিলেন। তাঁর পূর্বপুরুষগণ ইরাকের বাগদাদ থেকে ভারতের কাশ্মীর হয়ে এদেশে এসে ছিলেন।

শিক্ষা জীবনঃ

প্রখর স্মরন-শক্তি সম্পন্ন মেধাবী ছাত্র হিসাবে তিনি শিক্ষক মন্ডলীর নিকট সুপরিচিত। শিশুকাল থেকেই তিনি ব্যতিক্রমী। তিনি অন্য সকল শিশুর মত অতিরিক্ত খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন না। শিশুকাল থেকেই তিনি প্রকৃতি থেকে জ্ঞান অর্জন করতেন। তিনি মানিকগঞ্জ ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা থেকে ১৯৮২ সালে আলিম ও ১৯৮৫ সালে ফাযিল সম্পন্ন করেন। তারপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৮ সালে বি.এ.(অনার্স) (এরাবিক) ও ১৯৯২ সালে এম.এ.(এরাবিক) পরীক্ষায় যথাক্রমে ১০ম ও ২য় স্থান অধিকার করে মেরিট লিষ্টে স্থান করে নেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সেন্ট্রল ল’ কলেজ থেকে এল.এল.বি ও মুহাম্মাদপুর আলিয়া মাদ্রাসা, ঢাকা থেকে এম.এম.(আল হাদীস) ডিগ্রী লাভ করেন। প্রাকৃতিক প্রজ্ঞাসম্পন্ন (Natural Talent) ও তাঁর পিতার বিশেষ দু‘আর ফলে তিনি লেখাপড়ায় খুব বেশী সময় দিতে হতো না। তিনি ১৯৯৪ সালে এরাবিক ক্ল্যাসিকে এম.ফিল.করেন। তারপর তাঁর পিতার নির্দেশে ১৯৯৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পিএইচ.ডি গবেষক হিসেবে যোগদান করেন। পিএইচ.ডি গবেষণার শিরোনাম ছিল: ইমাম আযম আবূ হানীফা (রাহ): ফিকহশাস্ত্রে তাঁর অবদান। তাঁর এম ফিল ও পিএইচ.ডি’ র তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেশ বরেণ্য প্রখাত আলিম বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ আরবী ভাষা বিশেষজ্ঞ, ডবল স্বর্নপদক প্রাপ্ত, বহু ভাষাবিদ, বহু গ্রন্থ রচয়িতা আ.ন.ম.আবদুল মান্নান খান ছাহিব, প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান, আরবী বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১২ ডিসেম্বর ২০০৯ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় চ্যান্সেলর মো: জিলুর রহমান তাঁকে আনুষ্ঠনিকভাবে পিএইচ.ডি ডিগ্রী প্রদান করেন। আরবী সাহিত্যের্ (Arabic Literature) জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি মুফতি ড. মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব আল্লাহপাকের মেহেরবানীতে চিকিৎসা বিজ্ঞান (Medical Science), মহাকাশ বিজ্ঞান (Space Science), দর্শণ (Philosophy), মনোবিজ্ঞান (Psychology), পদার্থবিদ্যা (Physics), রসায়ন (Chemistry), আইন বিজ্ঞান (Jurisprudence) হানাফী ফিকহশাস্ত্র (Science of hanafi jurisprudence) ইত্যাদি বিষয়ে গভীর জ্ঞানের অধীকারী হন। তিনি বি.এ.অনার্স সম্পন্ন করার পর বি.সি.এস. ক্যাডারে পরীক্ষা দেয়ার জন্য ফর্ম এনেছিলেন। তখন তাঁর পিতা তাঁর মাতাকে বলেছিলেন, ওর বি.সি.এস.পরীক্ষা দেয়ার দরকার নেই, পরীক্ষা দিলেই ম্যাজিষ্ট্রেট হয়ে যাবে তখন আমার দরবার চালাবে কে? এই বলে তাঁকে আর আবেদন পত্র জমা দিতে দেন নি। এ থেকেই বুঝা যায় তিনি শিশুকাল থেকেই তাঁর পিতার হৃদয়ে নজর কেড়েছিলেন।

আধ্যাত্মিক মহাসাধনা জীবনঃ

ড. মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব জন্মগত ভাবেই আল্লাহর অলী। তিনি শিশুকাল থেকেই আধ্যাত্মিক পরিবারে পরিপূর্ণ ইসলামী আদর্শে বেড়ে উঠেছেন। তাঁর কুতুব-উল-আকতাব পিতার সঠিক তত্ত্বাবধানে তিনি পরিপূর্ণ সুন্নতের পাবন্দ ছিলেন। পরিপূর্ণভাবে সুন্নতকে মেনে ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় চললে সে কত সুন্দর হতে পারে সেটি তাঁর বেলায়েতী সূরাত স্বচক্ষে না দেখলে অনুধাবন করা যাবে না। তাঁর আধ্যাত্মিক সাধনার সবচে বড় অংশ জুড়ে রয়েছে তাঁর মুর্শিদ কেবলা ও পিতার খিদমত করা। তিনি তাঁর মুর্শিদ কিবলা ও পিতাকে অত্যন্ত ভালবাসতেন। সাথে বেশ তাঁর পিতার কোন হুকুম পেলে সেটি সমাপ্ত না করে তিনি ক্ষান্ত হতেন না। হুকুম যত কঠিনই হোক না কেন জীবনের সবোর্চ্চ শক্তি দিয়ে তিনি তা পুংখ্যানুপুংখ্য ভাবে পালন করতেন। তিনি শিশুকাল থেকেই মিতব্যয়ী, বিচক্ষন ও উচ্চ মনের দরদভরা দানশীল মানুষ ছিলেন। অপব্যয় ও অলসতাকে তিনি ঘৃনা করেন। তাঁর খেয়াল অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের। একবার তিনি বাড়ীর ভিতর থেকে ফেলে দেয়া এক খন্ড কাঠের টুকরো সংগ্রহ করে আবার বাড়ীর ভিতরে নিয়ে যত্ন করে রেখেছেন। তখন সেই কাঠের টুকরোটি তাঁর পিতা দেখে তাঁর মাতাকে বললেন, এটি বাড়ীর ভিতর কে এনেছে? তিনি বললেন কে আর আনবে আপনার ছেলে মনজু এনেছে। তখন কুতুব-উল- আকতাব অন্তর থেকে বিশেষ দু‘আ করে বলেছিলেন, তুমি দেখে নিও আমার এ ছেলেই একদিন আমার দরবারের সব কিছু দেখে ঠিক করে রাখবে। আজ প্রায় ৩০ বছর পর আল্লাহর অলীর সে কথা বাস্তবে রুপ নিচ্ছে। তিনি তাঁর পিতার প্রতিষ্ঠিত বিশ্ব তা‘লিমে যিকর মানিকগঞ্জ দরবার শরীফের হাল তাঁর বলিষ্ঠ হস্তে ধরে গোটা বিশ্বে ইসলাম প্রচারের কাজ বৃদ্ধি করার মহাপরিকল্পনা নিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। সে দিন খুব বেশী দূরে নয় যখন মানিকগঞ্জ দরবার শরীফে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেশী বিদেশী বিধর্মী নাগরিকরা এসে আল্লাহর যিকর শুনে দলে দলে ইসলাম গ্রহন করবে। তাঁর অধ্যাত্মিক সাধনার ভিতর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো তিনি যখন শিশু তখন তাঁর পিতা কবর খুড়ে মাটির নিচে দীর্ঘ দিন বিশেষ মুরাক্বাবা মুশাহাদা ও যিকর করতেন। কিন্তু ঐ বয়সেই তিনি তাঁর পিতা কবর থেকে বেড়িয়ে আসলে সেই কবরে বসে আল্লাহর যিকর করতেন। তাঁর পিতা কুতুব-উল-আকতাব অধ্যাপক হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব (রাহ.) একটি সাইকেল চালিয়ে কলেজ থেকে বাড়ীতে আসতেন এবং বিভিন্ন এলাকায় ইসলামের দাওয়াতের জন্য সফর করতেন। শিশুকালেই তিনি প্রতিদিন অত্যন্ত যত্ন করে তাঁর পিতা ও মুর্শিদ কিবলার সেই কিবলার বরকতময় সাইকেলটির চাকা, প্যাডেল, হ্যন্ডেল ইত্যাদি মু্ছে পরিষ্কার করে নতুন করে দিতেন। ইলম মা‘রিফতের গভীর জ্ঞান ছাড়া কখনই কোন সাধারণ শিশুর পক্ষে এ কাজ সম্ভব নয়। তিনি তাঁর পিতার ইনতিকাল পর্যন্ত একনিষ্ঠভাবে তাঁর বিশেষ খিদমতে নিয়োজিত ছিলেন।

খিলাফত (সনদ) প্রাপ্তিঃ

১৯৯৯ সালের ২০শে ফাল্গুন কুতুব-উল-আকতাব আলহাজ্জ্ব অধ্যাপক হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব (রাহ.) তাঁর সুযোগ্য বড় ছাহিবজাদা আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতি ড. মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিবকে, চিশতিয়া ছাবিরিয়া ও কাদরীয়া উভয় তরীক্বার পূর্ণ খিলাফত দান করেন। ঘিওর থানার তেরশ্রী পয়লা গ্রামে তাঁর দাদার বাড়ী, সেখানে তাঁর দাদা ও দাদীর কবর শরীফের সামনে তাঁকে খিলাফত দান করা হয়। এ সময় একটি বিশেষ ঘটনা ঘটেছিল, সেটি হলো, সেদিন তেরশ্রীতে বেশ কয়েকজন ফকির লাইনের বড় চুলওয়ালা লাল কাপড় পরিধান করা সাধক এসেছিলেন। তখন ১৯৯৯ সাল, কুতুব উল আকতাব কে দেখার জন্য ও তাঁর নিকট দলে দলে বায়‘আত হওয়ার জন্য সকল মানুষ ছুটে আসতো। তাঁকে যেখানেই মানুষ পেতো দল বেধে তাঁর নিকট বায়‘আত হতো। কিন্তু সেদিন সেই ফকির সাধকরা কুতুব উল আকতাব (রাহ.) এঁর নিকট বায়‘আত হলো না, তারা বললো আমরা আপনার নিকট বায়‘আত হবো না যদি আপনার ছেলে আমাদেরকে বায়‘আত করে তাহলেই আমরা বায়‘আত হবো। কুতুব-উল- আকতাব (রাহ.) এঁর ভাষায় তখন আমি দেখলাম লোক গুলো বায়‘আত যদি না হয় তাহলে এরা আল্লাহকে পাওয়ার ওসিলা থেকে বন্চিত হয়ে যায়। তখনই আমি আমার বাপজান ও মায়ের কবরের সামনে আল্লাহর বান্দা মনজুকে খিলাফত দিলাম। তারপর তারা মনজুর নিকট বায়আত হয়ে গেল। তাঁকে খিলাফত দেওয়ার ব্যাপারে আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে আরো অনেক আগেই হুকুম এসেছিল কিন্তু আমি আর কিছু বিলম্ব করতেছিলাম এ কথাগুলো ১৯৯৯ ইং সালে বাৎসরিক ইসলামী মহাসম্মেলনে লক্ষ লক্ষ মানুষের সম্মুখে তিনি বলেছেন। খিলাফত দেওয়ার পর ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে কুতুব-উল-আকতাব বলেছেন, মনজু আমার ছেলে তাই তাঁকে আমি খিলাফত দেই নাই ও তোমাদের সকলের চেয়ে ব্যতিক্রম, আমল আখলাকের দিক দিয়ে তোমাদের চেয়ে ভাল, ও কখন ও চায়ের দোকানে বসে অযথা সময় নষ্ট করে নাই, ও কোন দিন বিড়ি খায় নাই, তোমরা কে কি কর তা আমি জানি, ও দরদী মনের একজন মানুষ তাইতে তাকে আমি খিলাফত দিছি। তাছাড়া তোমরা ওর চেয়ে যোগ্য, ওর চেয়ে শিক্ষিত একজন আন আমি তাকে খিলাফত দেই। আমি তোমাদের একজন দরদভরা মানুষের নিকট রেখে গেলাম। যদি কখনও কেউ দরবারের বিরুদ্ধে কিছু করতে চায় তোমরা সকলে তার বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করবে, তোমরা দুই হাত তুলে আমাকে দেখাও, তখন প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ হাত উচু করে আল্লাহর অলীকে দেখিয়েছেন।

তরীক্বা পরিচালনাঃ

২০০০ সালের ২১ মে দিবাগত রাত্রি অর্থাৎ সোমবার কুতুব-আল-আকতাব আলহাজ্ব অধ্যাপক হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব (রাহ.) ইনতিকাল করেন। তারপরই তরীক্বা পরিচালনার মহাদায়িত্ব তাঁর পালন করতে হয়েছে। ড. মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব তাঁর বিচক্ষণতা, প্রজ্ঞা, ধৈর্য, ক্ষমা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে তরীক্বার খিদমতকে আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে দেন। ইতিমধ্যেই কয়েকটি কিতাব আরবী ও ইংরেজী ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। তারপর ১৯৭৭ সালে তাঁর পিতার প্রতিষ্ঠিত জামি‘আ ‘আরাবিয়া ছিদ্দিকীয়া দারুল ‘উলম মাদরাসার জন্য পাঁচ তলা ভবন নির্মাণ করে মাদ্রাসার মান উন্নয়নে ব্যাপক সংস্কার করেন। ২০০৩ সালে তিনি জাতীয় পর্যায়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত মেলায় তার প্রতিষ্ঠিত ছিদ্দিকীয়া ফাউন্ডেশন বাংলাদেশকে অংশগ্রহন করানোর মাধ্যমে দেশ বরেণ্য ‘আলিম ও জ্ঞানী মহলে তাঁর পিতার লিখা কিতাব সমূহ তুলে ধরেন। যা সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়ে কিতাবের বহুল প্রচার ঘটিয়েছে। তারপর ঢাকার উত্তর বাড্ডায় প্রতিষ্ঠিত খানকায়ে ছিদ্দিকীয়া আধুনিকায়ন করে আগত জনসাধারন যেন খুব সাচ্ছন্দে বসে মহান আল্লাহর যিকর করতে পারে তাঁর সুব্যবস্থা করেন। তারপর ২০০৪ সালে ৯ ই জুলাই মহাভাবনা প্রতিবিম্ব উদ্বোদনের মাধ্যমে ছিদ্দিকীয়া রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠিত করেন। তারপর তিনি বাংলাদেশের প্রথম গবেষণামূলক ইসলামী পত্রিকা মাসিক ভাটিনাও প্রতিষ্ঠিত করেন। সাথে সাথে ছিদ্দিকীয়া সেমিনার রুম প্রতিষ্ঠা করেন সেখানে জ্ঞানী মহলের সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ২০০১ ইং সালে মানিকগঞ্জ দরবার শরীফের মেধাবী ছাত্র ও যুবকদের নিয়ে তিনি ছিদ্দিকীয়া ইসলামী যুব সংঘ নামক একটি গবেষণা ও সেবামূলক সেচ্ছাসেবক সংগঠন প্রতিষ্টা করেন, যার চেয়ারম্যান তাঁর আদরের সন্তান আল্লাহর বান্দা হযরত মাওলানা মিকদাদ ছিদ্দিকী ছাহিব। উল্লেখ্য আল্লাহর বান্দা হযরত মাওলানা মিকদাদ ছিদ্দিকী ছাহিব তাঁর দাদুভাই ও পিতার মত মেধাবী ছাত্র তিনি অল্প বয়সেই তাঁর পিতার মত পড়ালেখার পাশাপাশি তাঁর পিতার নিদের্শে ইতিমধ্যেই তরীক্বার কাজে সহযোগীতা করছেন। ড. মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব ২০০৮ সালের নভেম্বরে একটি প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র চালু করেন, যাতে সাধারণ মানুষ খুব সহজে চিকিৎসা সেবা পেতে পারে। অন্যদিকে ঐতিহাসিক বন মহাসম্মেলন করার জন্য তিনি মানিকগঞ্জের উথুলীর কলাবাগানে সামাজিক বনায়ন করেন। যা একদিকে দেশের অক্সিজেনের চাহিদা পূরনে অবদান রাখছে পাশাপাশি লক্ষ লক্ষ যিকরকারী প্রাণভরে প্রকৃতির পরশে মহান আল্লাহর মধুর নামের যিকর করছে। তারপর তিনি মানিকগঞ্জের উথুলীর কলাবাগানে নতুন একটি মাসিক মাহফিল চালু করেন। সেখানে তিনি একটি জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠাতা করেন। ইতিপূর্বে তিনি ঘিওর থানার তেরশ্রী ও কৃষ্ণদিয়ায় দুটি জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠাতা করেন। এ সকল কাজের সাথে সাথে ড. মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব অক্লান্ত পরিশ্রম করে বৃহত্তর ঢাকা, টাঙ্গাইল, নোয়াখালি, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, খুলনা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, চূয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, পাবনা, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, নেত্রকোনায় নতুনভাবে চিশতিয়া ছাবিরিয়া তরীক্বার আলো ছড়িয়ে দেন। অদূর ভবিষ্যতেই গোটা বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরেই চিশতিয়া ছাবিরিয়া তরীক্বার আলো প্রবেশ করবে ‘ইনশাআল্লাহ। এভাবেই তিনি দূর্বার গতিতে তাঁর পিতার পবিত্র দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

(তাসাউফ গবেষণা ও কিতাব সমূহ)                           (তাসাউফ সংক্রান্ত অমূল্য বানী)



 

Designed by Mohd Nassir Uddin